Thursday, February 15, 2018

কৌলাল ON LINE:SWAPAN THAKURER BLOG


 আনন্দের কথা এবার থেকে শুরু হলো কৌলাল অন লাইন ব্লগ।এই  অন লাইন ব্লগে এবার আপনাকেও স্বাগত। বাংলার ইতিহাস সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ক্ষেত্রসমীক্ষা ভিত্তিক যে কোন মৌলিক লেখা ছবি ভিডিও  সহ পাঠিয়ে দিন। বাংলা বা ইংরাজিতে লেখা পাঠান।নির্বাচিত হলে ব্লগে পোস্ট করা হবে। এই ব্লগটি অল্প দিনের মধ্যে  যেভাবে পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে তাতে আমরা আনন্দিত ও উৎসাহিত।আপনিও এই ব্লগে লিখুন।আর  দেশ বিদেশের পাঠকের কাছে পোঁছে যান।অভ্রতে টাইপ করে মেল করুন -- drswapankrthakur@gmail.com.ফোন --9332933023.সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি পাঠাবেন ।



যেকোন যোগাযোগ-----

 ড.স্বপনকুমার ঠাকুর কাটোয়া দত্ত মিলের মাঠ কাটোয়া পূর্ববর্ধমান পিন ৭১৩১৩০


Tuesday, February 13, 2018

VALENTINE DAY O MOHASHIBO RATRI


              



 ভ্যালেন্টাইন ডে ও মহাশিবরাত্রি


আজকের দিনটা যাকে বলে ষোল আনা প্রেমের দিন।ভালোবাসার নিশা। পরিণয়ের রাত্রি। মহাশিবরাত্রি।হরগৌরীর মহামিলনের রাত। এইদিন গৌরী শিবের গলায় মালা পরিয়ে বলেছিলেনঃ এ রাত তোমার আমার। অন্যদিকে ভ্যালেনটাইনডে।আত্মত্যাগের দিন।অনুরাগের ছোঁয়ায় শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসা।একদিকে পথের প্রান্তে ফুটে ওঠা আকন্দফুলের স্নিগ্ধতা।অন্যদিকে গোলাপের রক্তিমতা।


 পুরাণ মতে আজকের রাতে শিবপার্বতীর বিয়ে হয়েছিল ঘটা করে।আবার কেউ বলেন শিব আজকে ধরাধামে লিঙ্গরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।তাইতো প্রণয়ের রাত, পরিণয়য়ের রাত এই মহাশিবরাত্রি। আজও ভারতের আদর্শ দম্পতির প্রতীক হর-গৌরী।সেই কারণে হিন্দু রমণীরা আজকের রাতে চারপ্রহরে চার বার লিঙ্গরূপী শিবের মাথায় জল ঢালেন।শিব শুধু নটরাজ নন,তিনি প্রেমের দেবতা।
অন্যদিকে এই চোদ্দই ফেব্রুয়ারি আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে।বসন্ত সমাগত।গাছে গাছে কচি কিশলয়।ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল।কোকিল কুহুতানে ডাকছে।মনের বনে জেগেছে  বাউল বাতাসের খ্যাপামি।আজতো চুপি চুপি তাকে বলতে বড্ড ইচ্ছে করে --"ভালোবেসে সখি নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে"।


তার্কিকরা বলবেন সেকি! ভালোবাসার আবার দিন ক্ষণ আছে নাকি! আরে বাবা-- প্রতীকী বলেতো একটা কথা আছে! ভ্যালেন্টাইন সেই প্রতীক মাত্র। প্রেমেপড়ার দিন।গল্পটা সবার জানা।রোমসম্রাট ক্লদিয়াস টু।সাম্রাজ্যরক্ষা তাঁর বড় দায়।যত বড় শক্তিশালী সৈনিক হোক না কেন।নারীর এক কটাক্ষেইতো সে কুপোকাত! সম্রাট তা বিলক্ষণ জানেন।সেই জন্যই দিলেন আইন জারি করে রোমসাম্রাজ্যে সৈনিকরা বিয়ে করেছো কি ঘ্যাচাং!

  এদিকে যাজক ভ্যালেন্টাইন রাজার আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গোপনে বিয়ে দিতে লাগলেন সৈনিকদের।রাজার কাছে খবর গেল।হুকুম দিলেন পাকড়াও উসকো।দিলেন জেলে পুরে।বললেন--অপরাধ স্বীকার কর।প্রাণে বাঁচবে।ভ্যালেন্টাইন প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান। রাজাজ্ঞাকে করলেন থোড়াই কেয়ার।১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে হত্যা করা হলো।তিনি হয়ে উঠলেন কালক্রমে প্রেমের দেবতা--অখণ্ড ধরনীতে।


সুতরাং আজ এই প্রেমের দিনে সকাল থেকেই শুরু হবে মনের বনে লুকোচুরি।প্রেমের উছ্বাস।গোলাপের সৌরভ। এলোমেলো দখিনা বাতাসের  দাপাদাপি।মন দেওয়া নেওয়া।চাই কি চোখের ইশারাতেই  বিশ্বজয়! উন্মোচিত হবে নব যৌবনের কিশলয়।আমাদের পৌঢ় হৃদয় আকাশে দেখা দেবে হঠাত আলোর ঝলকানি।কারু কারু জেগে উঠবে  ধুলো পড়া স্মৃতির চরাভূমি।কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!

কিন্তু সবুজ মনের অবুঝ প্রেমকে চিরকাল শাসন করেই এসেছে শক্তিশালীরা।  অধিকাংশ পরকীয়া  রতি মানেই রক্তারক্তি। হত্যা প্রতিহত্যা।আজও সংবাদমাধ্যমে পরকীয়া প্রেমের আঘাতের ছবি দেখি।কিন্তু পরকীয়াতেই প্রেম পায় এক প্রচণ্ড  শক্তি।একরোখা,উদ্দাম।সে হয়তো মরণের মধ্য দিয়েই জয়লাভ করে ।সমাজ চায় আমাদের প্রেম হোক  স্বকীয়া। এখানেই চিরন্তন দ্বন্দ্ব।রাধাকৃষ্ণর প্রেম অবৈধ হলেও তাদেরও শাস্ত্র মতে বিবাহ হয়েছে। সেখানে সমাজের দায় বেশি।অবৈধ প্রেম বৈধতা পেয়েছে পরিণয়ের মধ্য দিয়ে।গর্গপুরাণেই রাধাকৃষ্ণের বিয়ের বিশদ বর্ণনা রয়েছে।


 এক হিসাবে ভ্যালেন্টাইনডে কিন্তু বৈধপ্রেমেরই দিন। যাজক ভ্যালেন্টাইন  নর-নারীর প্রেমকেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন  বিবাহের মাধ্যমে।সুতরাং ভ্যালেনটাইন ডে নিয়ে গেল গেল করার কিছু নেই।তিনিও অবৈধ প্রেমকে বৈধ করার জন্যই শহীদ হয়েছিলেন। আর এখানেই মিলে যায় দিন আর রাত্রি।ভ্যালেন্টাইন আর শিব।ভ্যালেনটাইন ডে আর মহাশিবরাত্রি ।

Monday, February 12, 2018

KRISHNOKOLI SWAPANKUMAR THAKUR


                                       কৃষ্ণকলি

                                         




                                                  স্বপনকুমার ঠাকুর


কালো তার গায়ের রঙ।কোঁকরানো চুল।ঘর বলতে ছিটেবেড়ার কুঁড়েঘর। লালমাটি দিয়ে নিকোনো চুকোনো।তারমধ্যে খড়ি দিয়ে ফুলকারি নক্সা।  ভক্ত সেই মনসা ভাদুর আর দিদিঠাকরুনের।গান -বাজনা  বিলাসী।উৎসবে সাজে।কুঁচিয়ে পরে শাড়ি।কপালে লাল রঙের টিপ।দল বেঁধে মেলায় গিয়ে সস্তার আংটি কেনে। সোনালি হার পরে।কালো চোখে কাজল টেনে ভাঁজো নাচতে আসে।গোপনে আসনাই করে ।কবি হলে বলতুম কৃষ্ণকলি।আসলে গ্রাম- গঞ্জের খেটে খাওয়া  এক্কেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের বউ-ঝি।

স্বামীর মতো তারাও কাজ-কর্ম করে খায়।ধান কাটে।ধান ঝাড়ে।পালা দেয়।কিন্তু সেতো চাষের সিজিনে ।আবার স্বামীর সঙ্গে এক আদঢোক গিলে নিয়ে দেদার ফুর্তি করে।তবে  তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাটা ভিন্ন ধরনের।যারা তাদের জীবনকে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখেছেন তারা ছাড়া  বুঝবেন না। স্বামীরা পরের খেতে কাজ করতে যায় সেই ভোরবেলায়।কেউ লাঙ্গল চষে।ধান রোয়।কেউ বা মেঠো খড়ো ঘর ছাওনার কাজে তলপেটে খাটে।আর তাদের গিন্নিরা একটু বেলা হলে বড় পাতকাটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে মাঠে ঘাটে।।কোথাও তালগাছের শুকনো খোঙা কাটে ।বাবলার ডাল ভাঙে। খড়খড়িয়ে গাছে উঠে বটের শুকনো নামাল কাটে।জ্বালানি সংগ্রহ করে।এ কাজ তারা যৌথভাবেও করে।তারপর ছায়াবহুল বটতলায় বসে ভাগপর্ব।  মাথায় শকনো বোঝারড্যাং চাপিয়ে বাড়ি মুখো।তখন সুজ্জিদেব মাঝ গগনে।


 চুলোতো জ্বলবে কিন্তু খাবার? গেরস্থবাড়ি থেকে দুসের চাল পেয়েছে বরের মজুরি বাবদ।আনাজ বলতে এর ওর জমি থেকে শাকপাতা ছিঁড়ে পেট কোঁচরে ভরা।এবার কিন্তু একটু আমিষ দরকার।নেমে পড়ে  পুকুরে।একঠা মাঠির ঠিলি বসিয়ে দেয় জলে।এবার নিজে গা ডুবিয়ে দু হাত দিয়ে পুকুরের ভিতরে পাঁক ঘাঁটকায়।গুগুলি চ্যাং ছিঙুরির বাচ্ছা কেঁয়ে পুঁটি ধরে ঠিলিতে ভরে।ঘাটের পাশে জোয়ান ছেলে  শিশ দিতে দিতে মোষের গা ধোয়ায়।বাউরিদের বউটার প্রায় অনাবৃত  একটুকস যৌবন দেখে হাঁ করে চেয়ে থাকে।বৌটা গাল পাড়ে শুনিয়ে শুনিয়ে।তারপর একসময় একটা দারুন কটাক্ষ হেনে মিলিয়ে যায় দুপুরের ঘূর্ণি বাওরের মতো।

 এবার দোকান করার পালা।আদবয়সী দোকানদার।যত রসিকতা মেয়েদের সঙ্গে । পাঁচ টাকার বাজেট। দড়িবাঁধা তেলের শিশিতে তেল।খুঁটে বাঁধা জিরে নঙ্কামরিচ  পাঁচমিশেলিঝাল আর একটা সস্তার ধূপকাঠি।আরও দেখতাম বিড়ি  ১০ পয়সার মতিহারি তামাকপাতা।বাড়িতে গিয়ে রান্না বলতে মাঠ থেকে ধরে আনা বেহুলা ক্যাংরাকে গরমবালিতে ভেজে শিলে আচ্ছা করে বেঁটে লঙ্কা আর নুন মাখান জবরদস্ত পদ।কিম্বা গুগুলিসানা কিম্বা কাঁচা পিয়াজ আর অপর্যাপ্ত ঝাল মেশানো চ্যাংমাছ পোড়ার  অমৃতময় ব্যঞ্জন।তাতেই আন ভাত আন ভাত অবস্থা।খেতে নিতে নিতে বেলা যেত গড়িয়ে।

কৃষ্ণকলিদের নিজস্ব একটা সংগীতচর্চার আসর ছিল।তার নাম মাঠালে গান।সে গানে  আদিরসের ভিয়েন ছিল।ছিল নারীর একান্ত নিজের দুঃখ বেদনা চাওয়া পাওয়ার জগত  যার মধ্যে শরীরের চাওয়া পাওয়া।এর নাম মাঠালে গান।ছোট ছোট চুটকির মতো রসালো। সবটা শোনা যেতো না ।কেননা পুরুষ দেখলেই স্টপ।শাকতুলতে তুলতে কিম্বা খেঞো কাটতে কাটতে গুনগুনিয়ে এই মাঠালে গান গাইত।বেশ কিছু সংগ্রহ করেছিলাম একসময়। যেমন...............
        



            মারিস নারে খালভরা /মাছকোথা পাবো
            জমিতে বইছে মাঠান/বাপের বাড়ি যাবো।

ইদানিং একশোদিনের কাজ, সরকারি সুযোগ সুবিধা নিঃসন্দেহে  তাদের জীবনযাত্রাকে অনেকটা পরিবর্তনের আস্বাদ যুগিয়েছে।কিন্তু আজও গ্রামে গ্রামে বাগদি বাউরি হাড়ি মুচিদের জীবনযাত্রার মান খুব একটার পরিবর্তন হয়নি।   আমার নিজের গ্রামে বাউরি হাড়ি মুচি বাগদি মিলিয়ে অন্তত চারশ ঘর পরিবার রয়েছে।সরকারি চাকরি পেয়েছেন মাত্র একজন কি দুজন।সিডিউলকাস্টের  সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন অন্য এক গোষ্ঠী।  খুব সত্য কথা তারা কিন্তু  এদের তুলনায় বড়োলোক সংরক্ষণের আগে থেকেই।সুতরাং তাদের ভদ্দরলোক হতে বেশীদিন সময় লাগেনি।বাকিরা পড়ে আছেন সেই  ঘোর তিমিরে।



 কবে তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে??

Saturday, February 10, 2018

RAR BANGLAR KOBIGAN KOBIYAL SUVASISH BANERJEE

 জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত কবিগান।এ শুধু গান নয়,কবির লড়াই।গানের লড়াই।বক্তব্য চুটকিগল্প ছড়ার লড়াই।সবশেষে থাকে বোলকাটাকাটি ।তারই একঝলক।কবিয়াল শুভাশিষ  ব্যনার্জির উপস্থাপনায়।

Saturday, February 03, 2018

কবিয়াল শুভাশিষ ব্যানার্জির কণ্ঠে কবিগান

মা-মাটি-মানুষের গান রাঢ়-বাংলার কবিগান।এই সময়ের জনপ্রিয় কবিয়াল শ্রীশুভাশিষ ব্যানার্জি।তাঁর কণ্ঠে শুনুন শাক্ত বৈষ্ণব পালার ব্বৈষ্ণবের ভূমিকায় অসামান্য গায়কি।কবিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ--7586836243

Tuesday, January 30, 2018

PROVU NITYANONDA CORIT

        


                             বড়ো গূঢ় নিত্যানন্দচরিত

                 

বৈষ্ণব মহাজন লিখেছেন যদি গৌর না জন্মাতো তাহলে "রাধার মহিমা প্রেমরস সীমা জগতে  জানিত কে!"আবার গৌরভক্তরা মনে করেন মহাপ্রভুকে জানতে বা বুঝতে নিত্যানন্দই ভরসা।তিনি দয়াল-ঠাকুর। গৌরভক্তি প্রেমদাতা।তাঁর কৃপাতেই গৌরসুন্দর ধরা দেবেন।ভক্তরা তাই সবার আগেই ঘোষণা করেন-- জয় নিতাই। কিন্তু নিত্যানন্দকে জানা কি এতই সোজা! সত্যি কথা বলতে কি-- মহাপ্রভুকে জানা বা বোঝার অন্তত চেষ্টাটুকু করা যায়;কিন্তু পদে পদে যিনি বিপরীত তাঁকে বোঝা কার্যত অসম্ভব! ফলে সহজেই হাল ছেড়ে দিয়ে নিত্যানন্দ বিরোধী হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। যেমনটি হয়েছিল তাঁর সমকালে। তাঁর জীবনকাহিনীর মতো তিনি নিজেই এক মহারহস্যময় চরিত্রের দৃষ্টান্ত। বড়ো গূঢ় নিত্যানন্দ!


বস্তুত,গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত  দুটি নাম গৌর-নিতাই। আজও গৌর-নিতাই'র দারু বিগ্রহ বাংলার বহু মন্দিরে ও বাড়িতে নিত্য সেবিত।তবে মহাপ্রভুর  নামে প্রচারিত গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম বলতে যা আমরা বুঝি তাহলো নিত্যানন্দ প্রচারিত বৈষ্ণবধর্ম। মহাপ্রভুকে তিনিই অখন্ড বঙ্গদেশে  জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।সমাজের উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ কায়স্থ বৈদ্য থেকে শুরু করে প্রান্তিক  তৃণমূলস্তরেও বৈষ্ণবধর্মকে জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্বের অধিকারী নিত্যানন্দ।
আবার বঙ্গদেশে তাঁর নেতৃত্বে গুরুবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।তিনি অধিকাংশ বৈষ্ণবপদকর্তাকে পদ রচনায় অনুপ্রাণিত করেছিলেন।তাঁর অনুগামীরাই তাঁর উৎসাহে চৈতন্যজীবনী সাহিত্য রচনা করলেও তিনি নিজে রয়ে গেছেন  নেপথ্যে।

অদ্ভুত বৈপরীত্যময় নিত্যানন্দের চরিত্র।সন্ন্যাসজীবন থেকে মুক্তি নিয়ে সংসারী হয়েছিলেন।সন্ন্যাসীর কৌপিনবস্ত্র পরিত্যাগ করে রাজবেশ পরিধান করেছিলেন।তিনি নিজেই যেন মূর্তিমান এক বিতর্ক ।অথচ সেকালের মতো একালেও তিনি যেন নির্বাসিত এক বৈষ্ণবসাধক।রহস্যময় তাঁর ব্যক্তিজীবন।সমকালে তাঁকে বুঝেছিলেন গুটিকয়েক ব্যক্তি।যার মধ্যে শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন অন্যতম।অথচ সত্যিকারের গণনায়ক বলতে যা বোঝায়  মহাপ্রভু নন স্বয়ং নিত্যানন্দ ।একথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেছেন একালের বৈষ্ণবপণ্ডিত-গবেষকরা।









নিত্যানন্দের ব্যক্তিজীবন বড় রহস্যময়।ভাবতে আশ্চর্য লাগে  শিষ্য বৃন্দাবনদাসকে চৈতন্যভাগবতকাব্য রচনার অনুপ্রেরণা যেমন যুগিয়েছিলেন তেমনি চৈতন্যজীবনী রচনার মুখ্য উপাদানগুলি  যুগিয়েছিলেন। সেখানে নিত্যানন্দের কথা খুবই কম।শুধু জানা যায় নিত্যানন্দের বীরভূমজেলার একচক্রাগ্রামে জন্ম।বাবা-মুকুন্দ ওঝা।মা-পদ্মাবতী।রাঢ়ীয়শ্রেণির ব্রাহ্মণ। বন্দ্যোপাধ্যায় কৌলিক পদবি। গ্রামে পরিচিতি ছিল হাড়াই  পণ্ডিত নামে।পুজো আর্চা নিয়ে থাকতেন। বলরাম দাসের প্রেমবিলাস থেকে অতিরিক্ত আরও কয়েকটি অতরিক্ত তথ্য জানা যায়।যেমন গৃহজীবনে নিত্যানন্দের নাম ছিল চিদানন্দ।তাঁর আরও কয়েকটি ভাই ছিল।নিত্যানন্দের জন্ম হয়েছিল মাঘমাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতিথীতে। বৃন্দাবন দাস লিখেছেন--


                মাঘমাসে শুক্লা ত্রয়োদশী শুভদিনে।
                পদ্মাবতী গর্ভে একচাকা নামে গ্রামে।।

 গবেষকদের মতে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর চেয়ে বয়সে বছর দশেকের বড় ছিলেন।সেই সূত্রে তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪৭৬/৭৭ খ্রিষ্টাব্দ।বাল্যকাল থেকে নিত্যানন্দ ধর্মীয় নাট-গীতে অনুরক্ত ছিলেন। কিশোর অবস্থায় উপনয়ন সংস্কারের পর তিনি এক সন্যাসীর সঙ্গে পলায়ন করেন।  সহজেই অনুমান করা যায় নিত্যানন্দ অতি ছোট থেকেই সন্যাসজীবনের প্রতি আসক্ত ছিলেন। তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে তীর্থে তীর্থে পরিব্রাজক হয়ে ঘুরে বেড়ান।গয়া-কাশি প্রয়াগ-মথুরা রঙ্গনাথ দণ্ডকবন ত্রিমল্ল বেঙ্কটনাথ কন্যকানগরী মাহিস্মতী হরিদ্বার ইত্যাদি তীর্থস্থানে প্রায় কুড়ি বৎসর কাটান।

 দুটি দশকের এই বিচিত্র জীবন সম্পর্কে কোন তথ্য জানা যায় না।বরাবর তিনি এ সম্পর্কে মৌন রয়ে গেছেন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবশ্য জানা গেছে প্রথমতঃ তিনি অবধূত অর্থাৎ তান্ত্রিক সন্ন্যাসী ছিলেন।ভক্তিরত্নাকর  থেকে জানা যায়-- তিনি পুরীসম্প্রদায়ের শিষ্য ছিলেন ।লক্ষীপতিপুরীর নিকট দীক্ষা লাভ করেছিলেন।কেউ কেউ বলেন  নিত্যানন্দ শংকর সম্প্রদায়ের সারদামঠে দীক্ষিত সন্ন্যাসী।তবে এসম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি নেই দ্বি্তীয়তঃ নিত্যানন্দ ছিলেন বেশে অবধূত। আকারে মহামল্ল এবং ভোজনপানে বীরাচারী।নবদ্বীপে বৈষ্ণব পরিকরদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় মদ্যপানের কথা প্রকাশ্যেই বলেন।বৃন্দাবন দাস লিখেছেন--

             মধু আন মধু আন বলি প্রভু ডাকে।
             হুঙ্কার শুনিতে যেন দুই কর্ণ ফাটে।। 
 নিত্যানন্দ বীরাচারি তান্ত্রিক অবধূত সাধক হলেও প্রকৃতিতে ছিলেন কৃষ্ণপ্রেমী।আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো নিত্যানন্দ  শিশুর মতো সরল অকপট।ক্ষণে রুষ্ট ক্ষণে তুষ্ট।এমন বিচিত্র স্বভাবের  ছিলেন নিত্যানন্দ।

বৃন্দাবনে সম্ভবত আলাপ হয়েছিল মাধবেন্দ্রপুরীর সঙ্গে।যাঁর কৃষ্ণপ্রেম  ছিল কিংবদন্তী তুল্য।বৃন্দাবন দাস লিখেছেন... মাধবেন্দ্র পুরী কথা অকথ্য কথন/মেঘ দরশন মাত্র হন অচেতন।।এই মাধবেন্দ্রপুরীর কাছ থেকে মহাপ্রভুর কথা জানতে পেরেছিলেন সম্ভবত।এই কারণে নিত্যানন্দ নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের বাড়িতে আসেন। বৃন্দাবন দাস লিখেছেন--

                মহাবধূত বেশ প্রকাণ্ড শরীর।
                নিরবধি ভক্তিরসে দেখি মহা ধীর।।
                অহর্নিশ বদনে বোলয়ে কৃষ্ণনাম।
                ত্রিভুবনে অদ্বিতীয় চৈতন্যের ধাম।
                নিজানন্দে ক্ষণে ক্ষণে করয়ে হুঙ্কার।
                মহামত্ত যেন  বলরাম অবতার।।

নিত্যানন্দ ও মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।মহাপ্রভু ভাগবতের একটি শ্লোক পাঠ করে নিত্যানন্দের হৃদয় জয় করেনিয়েছিলেন।নিত্যানন্দে্র হৃদয়ে জাগ্রত হয়েছিল  অন্তহীন কৃষ্ণপ্রেম।মূর্ছিত নিত্যানন্দকে মহাপ্রভু কোলে করে প্রেমালিঙ্গন দিয়েছিলেন।শচীমাতাও নিত্যানন্দকে দেখে  পুরাতন পুত্রশোক ভুলেছিলেন।তিনি যেন বিশ্বরূপ হয়ে ধরা দিয়েছিলেন শচীমাতার কাছে।নবদ্বীপ পর্বে নিত্যানন্দ যেন ক্রমশ গৌরের দ্বিতীয় তনু হয়ে উঠেছিলেন।নাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণকরা, কাজীর অন্যায় আদেশের  বিরোধিতাকরা,জনগণকে স্বৈরাচারী শাসকের বিপক্ষে এক কাট্টাকরা, জগাই মাধাই'র হাতে চরম লাঞ্ছিত হলেও প্রেমালিঙ্গনে কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা করে তোলেন  এই নিত্যানন্দ।মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণে অভিভাবকের মতো প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করে  তাঁকে নীলাচলে নিয়ে যাওয়া ,দাক্ষিণাত্য ভ্রমণে সাহায্যকরা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাঁর সদর্থক ভূমিকা লক্ষ করা যায়।


নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর সঙ্গে নীলাচলে থাকতে চেয়েছিলেন।কিন্তু  মহাপ্রভু বুঝেছিলেন নীলাচলে নিত্যানন্দকে অনেকেই মেনে নিতে পারবে না।তাছাড়া তিনি অদ্বৈত আচার্যসহ নিত্যানন্দকে গৌড়দেশে বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করার আদেশ দিয়েছিলেন

                 নিত্যানন্দে আজ্ঞা দিল যাও গৌড়দেশে।
                 অনর্গল প্রেমভক্তি করহ প্রকাশে।।

এর পর থেকেই নিত্যানন্দের জীবনে  আবার পরিবর্তন আসে।নিত্যানন্দের সঙ্গী হলেন রামদাস,গদাধর দাস,পরমেশ্বর দাস প্রমুখ বৈষ্ণবপরিকরবৃন্দ।তিনি আগেই সন্ন্যাসীর দণ্ডকমণ্ডলু ভেঙেছিলেন।এবার কৌপীনবস্ত্র ত্যাগ করলেন।দিব্য পট্টবাসে সজ্জিত হলেন। চৈতন্যভাগবতে রয়েছে--"কাষায় কৌপীন ছাড়ি দিব্য পট্টবাস/ধরেন চন্দনমালা সদাই বিলাস"।তিনি পরিচিত হয়ে উঠলেন কৃষ্ণের অগ্রজ বলরাম হিসাবে।তাঁর প্রধান প্রধান সহচরেরা হয়ে উঠলেন ব্রজের গোপবালক গোপাল।তাঁরাও অদ্ভুত বেশে সজ্জিত হয়ে হয়ে ভাগবতেরযুগকে যেন তাঁদের জীবনে মননে উজ্জীবিত করে তুললেন। বাংলা হয়ে উঠলো বৃন্দাবন।ভাগীরথী হলো যমুনা। বৃন্দাবনদাস লিখেছেন--
-
              কারো কোন কর্ম নাই সংকীর্তন বিনে।
              সভার গোপাল ভাব বাড়ে ক্ষণে ক্ষণে।।
              বেত্র বংশী শিঙ্গা ছাঁদডুরি গুঞ্জাহার।
              তাড়খাড়ু হাতে পায়ে নূপুর সভার।।

নিত্যানন্দ এবার বিয়ে করলেন কালনার গৌরীদাস পণ্ডিতের ভ্রাতা সূর্যদাস সরখেলের দুই কন্যা বসুধা ও জাহ্নবাকে।শুরু হলো এক নতুন জীবন।সপ্তগ্রাম অঞ্চলের ধনী বণিকরা তাঁর শিষ্য হলেন।বৈষ্ণবধর্ম এবার পায়ের তলায় মাটি পেল। নিত্যানদ তাঁর পরিকর নিয়ে মহাপ্রভুর নাম ও প্রেমধর্ম প্রচার করতে শুরু করলেন গাঙ্গেয় বাংলায়। বাংলায় বৈষ্ণবধর্মের মহাপ্লাবন বইতে শুরু করলো।

 এদিকে নিত্যানন্দের এই জীবন-যাপন বিশেষকরে  সন্ন্যাসী থেকে ধনী গৃহস্থ রূপ ও  বিচিত্র আচরণ অনেকের কাছে অসহ্য হয়ে উঠলো।তারা বিরূপ সমালোচনা শুরু করলেন।অনেকেই আবার  মহাপ্রভুকে মানলেও নিত্যানন্দের কঠোর সমালোচনা করলেন।কৃষ্ণদাস কবিরাজের ভাই শ্যামদাস মহাপ্রভুকে মানলেও নিত্যানন্দের ঘোর বিরোধী ছিলেন।এই কারণে কৃষ্ণদাসের সঙ্গে শ্যামদাসের বনিবনাও হয়নি।বৃন্দাবনদাস নিত্যানন্দ বিরোধীদের একহাত নিয়েছিলেন।বৈষ্ণব সুলভ বিনয় পরিত্যাগ করে  নিত্যানন্দ বিরোধীদের মাথায়  লাথি পর্যন্ত মারতে চেয়েছিলেন।

 আসলে নিত্যানন্দের জীবন বড় রহস্যময়।মহাপ্রভুর প্রয়াণের অন্তত আট দশ বছর  পর তিনি প্রয়াত হয়েছিলেন।অথচ তাঁর শেষ জীবন সম্পর্কে কোন তথ্য জানাই যায় না।মহাপ্রভুর শেষ বারো বছরের দিব্যোন্মাদ পর্বটিও সুচারু ভাবে চিত্রিত করেছেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যচরিতামৃত কাব্যে। কিন্তু নিত্যানন্দের ক্ষেত্রে তিনি নীরব।নিত্যানন্দের শেষ জীবনের কোন তথ্যই জানা যায় না।


 আগেই বলেছি--নিত্যানন্দের চরিত্রের অন্যতম  বৈশিষ্ট্য ছিল শিশুর মতো সারল্য ।কখনো তিনি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে নগ্ন হয়ে যেতেন।কখনো তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তেন উদ্দাম গঙ্গাবক্ষে।কখনো শিশুর মতো মালিনীর স্তন পান করেছেন।কখনো তিনি মহাপ্রভুর দণ্ড ভেঙে দিয়েছেন।কখনো রাজকীয় বেশ পরিধান করে নামসঙ্কীর্তনে মত্ত হয়েছেন।কখনো সামান্য ত্রুটির জন্য কাউকে গালিগালাজ করেছেন। তবে পাগলের মতো ভালোবেসেছেন মহাপ্রভুকে।এমনি এক বিচিত্র স্বভাবের মহা সাধক ছিলেন নিত্যানন্দ।সাধারণ লোকের পক্ষে তাঁকে বুঝতে না পারাটাই স্বাভাবিক।তিনি যেন সমস্ত নিয়মের ঊর্ধে উঠে গিয়েছিলেন। নিত্যানন্দভক্তরা বলেন তিনি বেদ-বিধির অতীত।বড়ো গূঢ় নিত্যানন্দ।এই নিত্যানন্দকে বুঝেছিলেন সমকালে হাতেগোনা কয়েকজন ব্যাক্তি।যাঁর মধ্যে মহাপ্রভু ছিলেন অন্যতম।এখনো কি তাঁকে আমরা বুঝতে পেরেছি বা বুঝবার চেষ্টা করি?


Thursday, December 14, 2017

GHORA MUKHI SINGHO O GHOTOK BAHONA DEBI

   দুর্গার বাহন ঘোড়ামুখি সিংহ ও রাঢ়ের ঘোটক বাহনা দেবী




         
দেবী দুর্গা দুর্গতি নাশিনী মহিষাসুর মর্দিনী সিংহবাহিনী। দেবীপুরাণ অনুসারে   সিংহের গ্রিবায় বিষ্ণু, শিরে মহাদেব, ললাটে পার্বতী, বক্ষস্থলে দুর্গা প্রভৃতি নানা দেবতার শক্তি বিন্যস্ত হয়েছে।সিংহ এমনিতেই পশুরাজ।যুদ্ধদেবী দুর্গার প্রকৃত বাহন। কিন্তু বনেদি বাড়ির দুর্গা বা প্রাচীন অষ্টধাতুর মূর্তি কিম্বা টেরাকোটা মন্দিরফলকে দুর্গার বাহন সিংহ ঠিক প্রাকৃত নয়, খানিকটা ঘোড়ার মত দেখতে।অনেকেই ঘোড়ামুখি বা ঘোড়াদাবা সিংহ বলেন। বলা যেতে পারে সিংহ ও ঘোড়ার মিশ্রণে অদ্ভুত এক পৌরাণিক জীব। বিষয়টি নিয়ে নানা কোণিক আলোচনা হলেও সন্তোষযোগ্য সমাধানে  এখনো  আসা যায়নি।ক্ষেত্রসমীক্ষার  সূত্রে আহৃত বেশ কিছু নতুন তথ্য  সম্পর্কে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।



  হরপ্পার প্রত্নতত্ত্বে ঘোড়ার অস্তিত্ব আজও আবিস্কৃত হয় নি।ঐতিহাসিকদের মতে  হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের অন্যতম কারণ ঘোড়ায় চড়া যোদ্ধা  বহিরাগত আর্যদের লাগাতার আক্রমণ।বৈদিক সাহিত্যে গরু বলদের প্রসঙ্গ যতই থাক  মুনি ঋষিরা অশ্বের জয়গানে মুখোরিত।একা ঋকবেদেই অশ্ব উল্লেখিত হয়েছে ২১৫ বার।ইন্দ্রের  বাহন ঐরাবতের সঙ্গে উচ্চৈঃশ্রবা নামক অশ্ব।বায়ুর অশ্বের নাম নিষুৎ।কল্কি অবতারতো অশ্ববাহন যোদ্ধামূর্তি।এমনকি কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা যখন মর্ত্যে আসেন তখন তাঁর যানবাহন নির্ধারিত হয়েছে চারটি যথা অশ্ব  গজ নৌকা ও দোলা। রাজারাজরাদের  অশ্বমেধের যজ্ঞের কথা না হয় বাদই দেওয়া হলো। অগণিত লোকদেবদেবীর  প্রধান ছলন বলতে এই ঘোড়া।  সুতরাং  মনে হতে পারে হয়তো ঘোড়ার এই  সার্বিক প্রাধান্য হেতু শিল্পীর চোখে  দেবী দুর্গার বাহন  সিংহের রূপ কল্পনায়  ঘোড়ার প্রভাব পড়েছে। ফলত, এমন বকচ্ছপ সিংহ দুর্গার বাহন রূপে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে।



 কিন্তু এটি কষ্ট কল্পিত ব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই নয়।প্রকৃতপক্ষে দেবী দুর্গার পরিচয় যুদ্ধ দেবী।আর প্রাচীনকাল থেকেই ঘোড়ায় চড়া এক ধরনের যুদ্ধদেবীর অস্তিত্ব দেখা গেছে রাঢ়ের  বিভিন্ন প্রত্নক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত মূর্তিফলকে।মঙ্গলকোট থেকে পাওয়া গেছে চতুর্ভূজা ঘোটকাবাহনা রণরঙ্গিনী দেবী।সময়কাল নির্ণিত হয়েছে কুষাণযুগ।বাঁকুড়ার সোনামুখীর স্বর্ণময়ী দেবী ঘোটকাবাহনা।বর্ধমান জেলার বেশ কিছু গ্রামে পূজিত হচ্ছে এই ধরনের  ঘোটকবাহনা দেবী। এগুলিকে কেউ দুর্গা বলে দাবী না করলেও  তাঁরা যে যুদ্ধদেবী ছিলেন  তাঁদের আয়ূধ দেখলেই বোঝা যায়।ক্ষেত্রসমীক্ষাসূত্রে প্রাপ্ত এমন কয়েকটি ঘোটকবাহনা যুদ্ধেদেবীর সবিস্তার আলোচনা সূত্রে  অবশ্যই বলা যেতে পারে রাঢ় অঞ্চলে সুপ্রাচীন কাল থেকে ঘোড়ায় চড়া এক যুদ্ধদেবী পূজিত হতো।পরবর্তীকালে সিংহবাহনা  দুর্গার পুজো প্রচলিত হলে  শিল্পীরা পূর্বতন  ঘোড়া ও দুর্গার  সিংহকে মিশিয়ে এমন এক অদ্ভূত বাহন করেছিলেন যারা নাম ঘোড়া দাবা বা ঘোড়ামুখি সিংহ।




PROTNO-SAMRAT

https://thekoulal.wordpress.com কৌলাল ওয়েবসাইটেও পড়তে পারেন।আর দেখতে পারেন মনের মতো ছবি।                                              ...